1. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : বাংলারকন্ঠ
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ.কম : বাংলারকন্ঠ.কম
  3. [email protected] : nayan : nayan
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিস

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩
  • ৭৫ বার দেখা হয়েছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ধ্বংসে দুর্নিতীর দায়ে পদচ্যুত কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ পাঁয়তারা চালাচ্ছে । ফলে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগকারি সাধারন শেয়ারহোল্ডারগন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুকিতে পড়েছেন বলে জানাগেছে। অথচ কোম্পানিটির বর্তমান ম্যানেজমেন্টের হাত ধরে বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক মন্দাকে মোকাবেলা করে ব্যবসা এগিয়ে যাচ্ছে। মহামরি করোনা এবং এর পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের চলমান সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও সিমেটেক্সে এবার বিনিয়োগকারীদের ৮% নগদ মুনাফা বা লভ্যাংশ দিয়েছে। এই অবস্থায় কোম্পানিটিকে রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সিমটেক্স কর্তৃপক্ষ।

জানাগেছে সিমটেক্সের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে গেলেও কোম্পানিটির পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান অগ্রযাত্রায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। গত বছরের ৩১ আগষ্ট কোম্পানির কারখানায় ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সশস্ত্র হামলা করে কর্মকর্তা ও শ্রমিকদেরকে মারাত্মকভাবে জখম করে ব্যবসায়ীক অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি তিনি নামে বেনামে সিমটেক্সের বর্তমান ম্যানেজমেন্টের সাথে জড়িতদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নপ্রান্তে অর্ধডজন হয়রানিমুলক মিথ্যা মামলাও দিয়েছেন। যদিও ইতিমধ্যেই তার দায়েরকরা একাধিক মিথ্যা মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ সিমটেক্স কতৃপক্ষকে অব্যাহতি দিয়েছে। পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিসের এই আচরন বর্তমানে আদালত পাড়াসহ দেশের ব্যবসায়িক মহলে প্রায় সকলেরই জানা।

তার এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে খোদ পুলিশ বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলাসহ এখন দেশের বিভিন্ন আদালতে বেশ কিছু মামলা চলমান। এরমধ্যে সরকার বাদী (বাংলাদেশ পুলিশ) হয়ে মামলা রজু করে (সাভার মডেল থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ধারাঃ ১৯অ/১৯(ভ) ১৭৭৮ সালের অস্ত্র আইন)। এছাড়া সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক দায়ের করা মামলা (সাভার মডেল থানার মামলা নং-০৩, তারিখ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭ /৪৪৮/৩২৩/ ৩২৫/৩২৬/ ৩০৭/১১৪/ ৫০৬/৩৪ পেনাল কোড), কারখানায় হামলায় গুরুত্বরভাবে আহত রিপন শেখ এর পরিবারের দায়েরকৃত মামলা (ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, বাগেরহাট মিস কেস নং ২৯০/২২) এবং সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক দায়ের করা আর্থিক জালিয়াতি/দূর্নীতি মামলা (যুগ্ন জেলা জজ আদালত, ঢাকা মামলা নং ০৭/২৩ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) চলমান।

অথচ এই পরিস্থিতিতেও রহস্যজনক কারনে পদচ্যুত সাবেক চেয়ারম্যানের অভিযোগের আলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ পূণ:গঠনের কথা ভাবছে বলে শোনা যাচ্ছ । যেখানে ৫ জনের বিশাল আকারের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে চায়। যে তালিকায় কমিশন শেখ মামুন খালেদকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে চাচ্ছে, যদিও কিন্তু তার বিরুদ্ধে আছে নানা অভিযোগ। যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ লোভলালসা, অতিলোভী ও বহুরূপীর অভিযোগ আছে। যার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে। দেশের গুরুত্বপূর্ন সরকারি পদে থাকার সময়ে তাকে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা চিনতেন দুর্নীতিতে ভাগ বসানোকারী হিসেবে। আর অন্য সাধারণ বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা চেনেন বড়ো চাঁদাবাজ হিসেবে।

বিশ্বস্থসুত্রে আরও জানাগেছে, বিএসইসি কতৃপক্ষ শেখ মামুন খালেদের সঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুবোধ দেবনাথ, দ্যা জুরিস্ট ঢাকা বাংলাদেশের পাটনার কাওসার আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাইয়ুম, ব্যবসায়ী আবিদ আল হাসানকে নিয়োগ দিতে চায়। কিন্তু একটি কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডারগনের প্রত্যক্ষভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকা সত্বেও বাইরে থেকে ৫ জনকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ কতটা যৌক্তিক, এই প্রশ্ন থেকেই যায়। এতে না কোম্পানিরই পরিচালনা ব্যায় বাড়বে এবং আখেরে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে শেয়ারহোল্ডারগণ।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়মিত মুনাফা অর্জন ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি করোনা মহামারির কারনে সৃষ্ট মন্দা কাটিয়ে উত্থানের পথে। আনিস পরবর্তী নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের হাত ধরে এরইমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের দেয়া ৪ শতাংশ থেকে উত্তরিত হয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৮ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এছাড়া মন্দা পরিস্থিতিতে যখন দেশের বেশীরভাগ কোম্পানী বোনাস নগদ পরিশোধ না করে শেয়ার ধরিয়ে দিতে চায়, তখন সিমটেক্স প্রতিবছর নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

এই অবস্থায় দূর্নীতির দায়ে পদচ্যুত সাবেক চেয়ারম্যানের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মনগড়া অভিযোগের আলোকে সিমটেক্সের পর্ষদ পূণ:গঠন কতটা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তা ভেবে দেখার দরকার বলে মনে করেন কোম্পানীটির বর্তমান ম্যানেজমেন্টের সাথে সংশ্লিষ্টগন ও সাধারন শেয়ার হোল্ডারগন । বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির বৃহত্তর স্বার্থে পুজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিষয়টি পূনঃবিবেচনা করে দেখবে বলে আশা সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ