1. [email protected] : bijoy datta : bijoy datta
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : Anis বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : SAIFUL : SAIFUL ISLAM
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:২২ অপরাহ্ন

তহবিল জোগাড়ে ব্যয় বেড়েই চলেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯

তহবিল জোগাড়ে ব্যয় বেড়েই চলেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। পিপলস লিজিং অবসায়নের উদ্যোগের পর অধিকাংশ ব্যাংক তহবিল জোগান বন্ধ করে দেওয়ায় কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেশি খারাপ অবস্থায় পড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ১০০ টাকা তহবিলের জন্য খরচ হয়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৭৪ টাকা। এর আগে আর কোনো মাসে তহবিল ব্যবস্থাপনায় এত খরচ করতে দেখা যায়নি। এক মাস আগে গত আগস্টে গড়ে ব্যয় হয়েছিল ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই সম্প্রতি শিল্প, গাড়ি, বাড়িসহ সব ধরনের ঋণের সুদহার বাড়িয়েছে।

আর্থিক খাত সংশ্নিষ্টরা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল সংগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস ব্যাংক খাত। তবে পিপলস লিজিং, বিআইএফসি, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্সসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ফেরত না পেয়ে বেশিরভাগ ব্যাংক আর টাকা রাখতে চাইছে না এসব কোম্পানিতে। সাধারণ বিনিয়োগকারীর মতো অনেক ব্যাংক কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আগে ঋণ দেওয়া টাকাও ফেরত চাইছে। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ সুদে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিউএম শরিফুল আলা এ বিষয়ে বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ বাড়ানোর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়ছে। তিনি জানান, ডেল্টা ব্র্যাক তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের ওপর খুব একটা নির্ভরশীল নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল তারা এখন খুব একটা সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে তিনি শুনেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, ২০১৩ সাল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যয়ের দু’ধরনের চিত্র প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একটির হিসাব করা হয় পাঁচ শতাংশ সুদে বংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া পুনঃঅর্থায়ন, বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে কম সুদে পাওয়া তহবিলসহ; আরেকটির হিসাব করা হয় এসব বাদ দিয়ে, যাকে সমন্বিত তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসেবে প্রতিবেদনে দেখানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কম সুদের তহবিল বাদ দিয়ে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে যা ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ২০১৭ সালের একই মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল সংগ্রহে এর আগে কোনো মাসে এত ব্যয় হতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে কম সুদের তহবিলসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের মাস আগস্টে যা ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০১৭ সালের একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে যা কার্যকর করার কথা। কার্যকর তো দূরের কথা, উল্টো সুদহার বাড়তির দিকে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে শিল্প খাতে সাড়ে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছিল প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন তারা ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদে দিচ্ছে। গাড়ি- বাড়ির ঋণের সুদহারও একইভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন ঋণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঋণের সুদহার বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে অনেককে নোটিশ দিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। ঋণের মতো আমানতের সুদও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন ১২ শতাংশ সুদে এক বছর মেয়াদি আমানত নিচ্ছে। তিন মাস মেয়াদি আমানতে সুদ দিচ্ছে ১০ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ। এর পরও আশানুরূপ আমানত না পাওয়ায় তেমন ঋণ বাড়াতে পারছে না এসব প্রতিষ্ঠান।

শেয়ারবার্তা / সাইফুল

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ