1. [email protected] : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : বাংলারকন্ঠ.কম : বাংলারকন্ঠ.কম
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারে আসছে অর্থ লোপাটকারীদের প্রতিষ্ঠান সোনালী লাইফ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে
shonali life

পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল ড্রাগন স্যুয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের অর্থ অপব্যবহার করায় জরিমানার কবলে পড়েছিল সেই ড্রাগন স্যুয়েটারের পরিচালকরা।

অন্যদিকে, উচ্চ প্রিমিয়ামে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল গোল্ডেন হার্ভেষ্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। সেই কোম্পানির শেয়ার মিলছে এখন ইস্যুকৃত মূল্যের অনেক নিচে। কোম্পানির পরিচালকরা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণ করেছে।

এবার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে ড্রাগন স্যুয়েটার ও গোল্ডেন হার্ভেষ্ট অ্যাগ্রোর মালিকানাধীন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। বীমা খাতের এই কোম্পানিটির পেছনে রয়েছে জরিমানার কবলে পড়া সেই ড্রাগন স্যুয়েটারের পরিচালকরা এবং আইপিও অর্থ সংগ্রহের ব্যবসায় নিম্নমূখী হওয়া গোল্ডেন হার্ভেষ্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রাজিব সামদানি।

পুঁজিবাজার থেকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ লক্ষ্যে ৩০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত আইপিওতে আবেদন চলছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে সোনালী লাইফের পরিচালক ও উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারে আনে ড্রাগন স্যুয়েটার। এই কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। যা ব্যবহারে অনিয়মের কারণে কোম্পানিটির প্রত্যেক পরিচালককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করে কমিশন। যে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে উদ্যোক্তা পরিচালকদের বিরুদ্ধে কারসাজি করার অভিযোগ উঠেছিল। কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না দেয়ায় কিছুদিন আগে তুমুল শ্রমিক অসন্তোষ এবং আন্দোলন হয়েছিল। যেটি নিরসনে বিজিএমএ এবং সরকার পর্যন্ত গড়িয়েছে।

অপরদিকে ২০১৩ সালে উচ্চ দরে (প্রতিটি শেয়ার ২৫ টাকা) শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সোনালী লাইফের পরিচালক এবং গোল্ডেন হার্ভেষ্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রাজিব সামদানি। ব্যবসায় উন্নতি করতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিলেও ক্রমানয়ে তলানিতে নামে কোম্পানিটির শেয়ারদর। যাতে আইপিওতে ২৫ টাকা ইস্যু মূল্যের শেয়ার এখন পাওয়া যাচ্ছে ১৫ টাকার নিচে।

দফায় দফায় ঋণ পরিশোধ করতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা এই গোল্ডেন হার্ভেষ্ট থেকে পরিচালকদের ব্যক্তিগত কোম্পানিতে নিয়মিত বিনাসুদে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সুদের উপর ঋণ নিয়ে পরিচালকদের ব্যক্তিগত কোম্পানি বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে পরিচালকদের কোম্পানির সুদজনিত ব্যয় না হলেও তালিকাভুক্ত গোল্ডেন হার্ভেষ্টের হয়েছে। যার দায়ভার বহন করতে হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির সকল শেয়ারহোল্ডারদের তথা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের।

গোল্ডেন হার্ভেষ্ট পুঁজিবাজার থেকে প্রথম দফায় ২০১৩ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। আর দ্বিতীয় দফায় ২০১৯ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। এই অর্থ সংগ্রহের ১ বছর পার না হতেই কোম্পানিটির পর্ষদ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদের কোন ডিভিডেন্ড না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ড্রাগণ সোয়েটার ও গোল্ডেন হার্ভেস্টের এমন ব্যর্থতার পরেও কোম্পানি দুটির পরিচালকদের সোনালী লাইফকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কোম্পানিটির উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন ড্রাগণ সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিংয়ের পরিচালক সাফিয়া সোবহান চৌধুরী, ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া ও গোল্ডেন হার্ভেষ্ট অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রাজিব সামদানি।

এছাড়া শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রয়েছেন ড্রাগন সোয়েটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুস সোবহান ও পরিচালক তাসনিয়া কামরুন অনিকা। এমনকি ড্রাগণ সোয়েটারের পরিচালক তাসনিয়া কামরুন অনিকার স্বামী মীর রাশেদ বিন আমান সোনালি লাইফের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এমনকি সোনালী লাইফের হেড অফিস ড্রাগণ সোয়েটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের মালিবাগের ভবনে। যার ৮৩০০ স্কয়ার ফিটের অফিসের ভাড়া গুণতে হয় মাসিক ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা।

পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করতে যাওয়া সোনালী লাইফে শেয়ারধারণেও এগিয়ে রয়েছে ড্রাগণ সোয়েটারের পরিচালকরা। বীমা কোম্পানিটিতে ড্রাগণ সোয়েটারের ফৌজিয়া কামরুন তানিয়ার শেয়ার রয়েছে ৯.৯৪ শতাংশ। এছাড়া মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের ৯.৪০ শতাংশ, সাফিয়া সোবহান চৌধুরীরর ৭.৪৭ শতাংশ, তাসনিয়া কামরুন অনিকার ৪.২১ শতাংশ, আহমেদ রাজীব সামদানির ৩.৬১ শতাংশ ও মোস্তফা কামরুস সোবহানের ১.০৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ