1. [email protected] : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : বাংলারকন্ঠ.কম : বাংলারকন্ঠ.কম
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০১:০২ অপরাহ্ন

ভ্যাকসিনের বিকল্পে ঠাণ্ডাজনিত রোগের ওষুধের চাহিদা

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪০৪ বার দেখা হয়েছে
medicin

করোনাভাইরাস বলতে ভাইরাসের একটি শ্রেণিকে বোঝায় যেগুলি সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেক সময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয়। করোনাভাইরাসের বেশিরভাগ লক্ষণ শীতজনিত রোগের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় চিকিৎসাবিদরা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীদের ঠাণ্ডা নিরাময়ক জাতীয় ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে ভ্যাকসিনের বিকল্পে শীতজনিত রোগের ওষুধগুলো করোনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। শীতে এই ভাইরাসটির প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে গবেষকরা।

শীতের সঙ্গে এ ভাইরাস বাড়ার সরাসারি কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমিত করতে পারে বা নিজের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে যে, শীতকালে এই ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে।

গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস আছে মোট চার রকমের, যা সাধারণ সর্দিজ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে।

প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস এবং আরএসভি নামে আরেকটি ভাইরাস আছে, যার সবগুলোর আচরণই মোটামুটি একই রকম। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তারে ঠাণ্ডা বেশি দায়ী, নাকি মানুষের আচরণ দায়ী এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো দ্বিমত আছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু আবহাওয়া নয় বরং সেখানকার কর্তৃপক্ষের নীতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা, জনসাধারণের সচেতনতা ইত্যাদি অনেকগুলো বিষয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে।

এ নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম জানান, ঠাণ্ডার সঙ্গে বা তাপমাত্রার সঙ্গে করোনাভাইরাসের বাড়া-কমার কোন সম্পর্ক আছে, সেটা আমরা এখনো পাইনি। করোনাভাইরাস বিশ্লেষণে সবকিছুই একেবারে নতুন ধরণের দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়েছে মার্চ মাসে, যখন এখানে শীতকাল শেষ হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মে, জুন, জুলাই মাসের দিকে, যখন বাংলাদেশে পুরো গরম ছিলো। প্রতিবেশী ভারতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ফলে দেখা গেছে করোনাভাইরাস বিস্তারে গরম আবহাওয়া কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গরম প্রধান অনেকে দেশেও করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। আবার শীতপ্রধান দেশগুলোয় গ্রীষ্মের সময়েও ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ হয়নি।

এদিকে, বাংলাদেশে শীতের সময় করোনাভাইরাসের আরেক দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। এজন্য নানা প্রস্তুতির কথাও বলা হয়েছে ইতিমধ্যে। এখন ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। গত কিছুদিন ধরে নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। যা ইতিমধ্যে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এরইমধ্যে পুনরায় রাত ৮টার পর দোকানপাটসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে শীত এগিয়ে আসছে। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটছে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস। বিশ্বে এ ভাইরাসের উৎপত্তি প্রায় এক বছর হতে চললেও এখনো পর্যন্ত এর শতভাগ কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হয়নি।

ফলে এ ভাইরাসের লক্ষণ বিবেচনা করে সাধারণ ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। তারা যেসকল ওষুধের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার দিচ্ছেন তার বেশীরভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগের ওষুধ।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে করোনায় ওষুধ শিল্পের চাহিদা কেমন, এসময়ে শীতজনিত রোগের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে দেশের ফার্মেসি ব্যবসায়ে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান লার্জ ফার্মা লিমিটেডের পরিচালক সাকিব রহমান জয় বলেন, কারোনাকালীন সময়ে আমাদের সেলস কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এখন তা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এই সময়ে শীতজনিত রোগের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে।

তিনি বলেন, করোনার প্রধান লক্ষণ স্বাসকষ্ট হওয়ায় এই সময়ে ইনহেলারের ব্যবহারটাও অনেকাংশে বেড়েছে। অনেকে আবার এটাকে করোনার প্রতিরোধক হিসেবে বাসায় নিয়ে রাখছেন। তবে করোনার জন্য বলা ঠিক হবেনা সিজনাল কারণে এমনিতেই শীতে ইনহেলারসহ ঠান্ডা জনিত ওষুদের চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়।

সাধারণ সর্দিকাশির মতো অনেক রোগ শীতকালে বেড়ে যায়। যাদের নিউমোনিয়া বা বক্ষব্যাধি রয়েছে, তারাও এই সময়ে বেশি কাবু হয়ে পড়েন। এসব উপসর্গের সঙ্গে করোনাভাইরাসের উপসর্গের অনেক মিল রয়েছে। লক্ষণগুলো অনেকটা একই রকম হওয়ায় আলাদা করার সুযোগ কম। ফলে কারো এ ধরণের লক্ষণ দেখা গেলে সেটা করোনাভাইরাসের মতোই সতর্কতা ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুতরাং এখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাধারণ ফ্লু থেকে করোনাভাইরাসকে আলাদা করা। কারণ করোনাভাইরাস এবং সাধারণ ফ্লুর লক্ষণ অনেক সময় একই রকমের হয়ে থাকে।

গবেষণা বলছে, এক ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ অন্য ধরণের ভাইরাসের আক্রমণের জন্যও সুযোগ করে দেয়।

তবে এক্ষেত্রে আশার কথা হলো, একটা ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকানোর মতো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে তা অন্য ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতেও সহায়তা করবে। তাছাড়া একইসঙ্গে একাধিক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, এরকম উদাহরণ খুব কম।

যেহেতু উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম, তাই এখন যেকারো সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা গেলে তার উচিৎ হবে, সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস হয়েছে কিনা, সেটাও পরীক্ষা করা।

আর পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসলেও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাগুলোর যথাযথ চিকিৎসা নেয়া এবং সচেতনা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ