1. [email protected] : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : বাংলারকন্ঠ.কম : বাংলারকন্ঠ.কম
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

নিজেকে ডিএসইর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ভাবছেন জিএম

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪০ বার দেখা হয়েছে
dse (1)

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও দু-একজন পরিচালকের ঘনিষ্ট হয়ে উঠার সুবাদে আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন পদোন্নতির জন্য পদত্যাগের নাটক সাজানো এক মহাব্যবস্থাপক (জিএম)। তার ভয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাকে কিছু বলার সাহস করেন না। যে সুকৌশলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরী খেয়ে ফেলেছেন।

চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত পরিচালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বদৌলতে নিজেকে ডিএসইর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেছেন ওই জিএম। এছাড়া তিনি এরইমধ্যে এমন কিছু কর্মকান্ড করেছেন, যা ডিএসইর ম্যানেজমেন্টের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী না হলে সম্ভবও না। পদাধিকারেই শুধুমাত্র তিনি পিছিয়ে রয়েছেন। যে সম্প্রতি ডিএসইর সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আরেকজনকে নিয়ে পদোন্নতির জন্য পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছিলেন।

ডিএসইর ম্যানেজমেন্টর প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক। একইসঙ্গে তিনি পদাধিকার বলে ডিএসইর পর্ষদের একজন সদস্য। তারপরেও ওই জিএমকে রেখে বোর্ড মিটিং থেকে এমডিকে বের করে দেওয়ার মতো কাজ করা হয়েছে।

এছাড়া তার থেকে উর্ধ্বতন প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকেও (সিএফও) পর্ষদ সভা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। যিনি বোর্ড মিটিংয়ে রেজুলেশন পর্যন্ত একাই পরিবর্তন করে ফেলেন।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ওই জিএম ট্রেক ইস্যু রুলস নিয়ে পর্ষদ সভায় রেজুলেশনে অনিয়ম করেছে। সে নিজেই একাধিকবার রেজুলেশনস পরিবর্তন করে। এছাড়া চেয়ারম্যানের আশ্রয়ে সে এখন পরিচালকদেরকে বোর্ড মিটিংয়ের এজেন্ডা যথাসময়ে পাঠায় না। ৭২ ঘন্টা আগে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও সে ৩০ মিনিট আগে দেয়। এ নিয়ে কোন কোন পরিচালক তাকে সতর্ক করলেও সে তা তোয়াক্কা করছে না।

তাছাড়া ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ওই জিএমের উপরে সিটিও, সিএফও, সিওও এবং এমডি থাকলেও তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে যে, ওইসব উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন তাকে কিছু বলতেও ভয় পান।

এই ক্ষমতার দাপোটে এরইমধ্যে তিনি ৭৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করেছেন। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে সেটা পর্ষদ সভায় অনুমোদনও হয়ে যাবে। অথচ তার চেয়ে অনেক পুরাতন হয়েও অনেক কর্মকর্তা হাউজ লোন পাচ্ছেন না। যেটা ২০১০ সালের পর থেকে বন্ধ রয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যান ও দু-একজন পরিচালকের সঙ্গে সর্ম্পকের খাতিরে তিনি ব্যক্তিগত ঋণ নিতে চাচ্ছেন।

ওই কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে এরইমধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক। এখন যার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ওই কর্মকর্তা। তবে এটা বাস্তবে হয়েও যেতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। অথচ এক বিতর্কিত পরিচালকের সঙ্গে জোট বেধে কাজী সানাউল হককে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সঠিকভাবে রেজুলেশন উপস্থাপন করেননি তিনি।

তথ্যানুযায়ী, পদোন্নতির জন্য পদত্যাগের নাটক সাজানো ওই অধীনস্থ কর্মকর্তা সবসময় ডিএসইর পর্ষদ সভায় কাজী সানাউল হককে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত থাকতেন। প্রয়োজনীয় কাজ না করে সানাউলকে দোষারোপ করতেন। যা নিয়ে পর্ষদ সভায় সানাউলকে কটুক্তি করা হতো। এভাবেই নিয়মিত কটুক্তি শুনতে শুনতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

দেখা গেছে,সানাউল হক গত ৮ অক্টোবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। যা ২১ অক্টোবর ডিএসইর পর্ষদ সভায় গৃহিত হয়েছে। অথচ তিনি মাত্র ৮ মাসে (৯ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইতে যোগদান করেন। তাকে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ