1. [email protected] : bijoy datta : bijoy datta
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : Anis বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : SAIFUL : SAIFUL ISLAM
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

‘জেড’ ক্যাটাগরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএসইসি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

‘জেড’ ক্যাটাগরি শেয়ারের দৌরাত্ব কমাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বহুবার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারেনি। সর্বশেষ গত আট মাস আগে সংস্থাটি ‘জেড’ ক্যাটাগরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নতুন করে উদ্যোগ নেয়। এজন্য গত ১১ এপ্রিল তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটি গঠন করার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ‘জেড’ ক্যাটাগরির বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, যেসব কোম্পানি ১ বছর কিংবা তার বেশি সময় ধরে জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে সেগুলোর জন্য প্রযোজ্য কমিশনের ২০০২ সালের নোটিফিকেশনের উপর আলোচনা ও সার্বিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দাখিলের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিটির সদস্যরা হলেন: বিএসইসির পরিচালক মো: মনসুর রহমান-আহবায়ক, উপ-পরিচালক শেখ মো: লুৎফুল কবির-সদস্য এবং উপ-পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম-সদস্য সচিব। ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৬৮২তম কমিশন সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যেসব কোম্পানি ১ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তার কার্যক্রম চলছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই এ বিষয়ে কমিশন নতুন সিদ্ধান্ত জানাবে।

উল্লেখ্য, যেসব কোম্পানির ১ বছর বা তার বেশি সময় ধরে জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে সেগুলোর জন্য প্রযোজ্য কমিশনের ২০০২ সালের নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, যেসকল কোম্পানি ১ বছর কিংবা তার বেশি সময় জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদ আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে পুন:গঠন করতে হবে। এ সংক্রান্ত ইজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্তত তিন সপ্তাহ আগে শেয়ারহোল্ডারদের নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে এবং একটি বাংলা অপরটি ইংরেজিসহ দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশ করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ পুন:গঠনের ক্ষেত্রে নতুন পরিচালক কোম্পানির স্পন্সর, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে গ্রুপিংভাবে নির্বাচিত হবে। ইজিএম অবশ্যই অবাধ এবং স্বচ্ছ হতে হবে।

কোম্পানির চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানির স্পন্সর পরিচালকদের শেয়ারহোল্ডিং ৫০ শতাংশের কম রয়েছে সেগুলোর পুন:গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান স্পন্সর পরিচালক গ্রুপের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতে পারবে না। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেশনাল বিবেচনায় নিয়োগকৃত হবেন।

পুন:গঠিত পরিচালনা পর্ষদে কারা পরিচালক হতে পারবে না সে বিষয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানির সাবেক এক্সিকিউটিভ, সাবেক স্ট্যাচুটরি অডিটর অথবা কোম্পানির অডিটরের সঙ্গে ব্যবসা কিংবা প্রফেশনাল সম্পর্ক রয়েছে অথবা কনসালট্যান্ট, কোম্পানির বিক্রয় বা ক্রয়ে ১০ শতাংশ অবদান রয়েছে এমন কোনো কাস্টমার অথবা সাপ্লাইয়ার, বর্তমান পরিচালক-স্পন্সর অথবা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে প্রফেশনাল সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি পুন:গঠিত পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হতে পারবেন না।

কোম্পানি পুন:গঠিত হওয়ার পর ৬ মাসের মধ্যে কোম্পানির ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি; সেটা যদি পরিচালক কিংবা অডিটরও হয় তাকে চিহ্নিত করবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোম্পানিকে মুনাফায় ফেরানোর জন্য পুন:গঠিত পরিচালনা পর্ষদ অপারেশনাল এবং ফাইন্যান্সিয়াল পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

যদি পুন:গঠিত পরিচালনা পর্ষদ ২৪ মাসের মধ্যে কোম্পানির অপারেশনাল এবং ফাইন্যান্সিয়াল পারফরম্যান্স উন্নত না করতে পারে তখন আইন অনুযায়ী কোম্পানিকে মার্জার অথবা বিলুপ্ত বা অবসায়ন করা হবে।

উল্লেখিত আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশন পদক্ষেপ নিলেও এখনো তার বাস্তবায়ন হয়নি। তবে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই কমিশনের পক্ষ থেকে জেড ক্যাটাগরির বিষয়ে নতুন কোন সিদ্ধান্ত আসবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ারবার্তা / হামিদ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ