1. [email protected] : bijoy datta : bijoy datta
  2. [email protected] : বাংলারকন্ঠ : Anis বাংলারকন্ঠ
  3. [email protected] : SAIFUL : SAIFUL ISLAM
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

ব্যাংক খাতের উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি দেশের ব্যাংক ও অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ব্যবস্থা যত বেশি মজবুত, অর্থনীতিও তত বেশি শক্তিশালী হয়। প্রধান ব্যাংকে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুশাসন চালু থাকলে শক্তিশালী ব্যাংক ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে। ব্যাংক ঝুঁকিতে থাকার অর্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিও ঝুঁকিতে চলে যাওয়া। সরকার দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে এসেছে। সরকারি বড় বড় প্রকল্প প্রতিবছর দেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে বিশাল অবদান রেখে চলেছে। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি দেশের জন্য বিরল ঘটনা। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করার সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক, সাহসী সিদ্ধান্ত। এখন প্রয়োজন যত কম খরচে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্মাণকাজটি সমাধা করে দেশের অর্থনীতিতে গতিপ্রবাহ বৃদ্ধি করা। সরকারের গৃহীত সব বৃহৎ প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দেশের ব্যাংক খাত সরকারকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতে হবে। তাই প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা। আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে ঝুঁকি থেকে উঠে এনে মূল অর্থনীতির বিকাশের ধারায় নিয়ে আসতে হবে। তবে বর্তমানে আইএমএফ প্রতিবেদনের চিত্র ভিন্নরূপ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে, প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ‘রেমিট্যান্স’। অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করতে প্রেরিত রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ সুবিধা ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিদেশ থেকে পাঠানো প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক প্রচলিত বিধিবিধান পরিপালন করে উপকারভোগী, অর্থাৎ বেনিফিশিয়ারির হিসাবে জমা অথবা উপকারভোগীকে দেওয়ার সময় ওই অর্থের ওপর দুই শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেবে। একজন প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থের জন্য প্রণোদনা হিসেবে দুই শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেবে। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের রেমিট্যান্স আহরণের গড় মাসিক অঙ্কের ভিত্তিতে তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ সহায়তার অনুমিত পরিমাণের তহবিল সরকারি বরাদ্দ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ইমপ্রেস্ট আগাম আকারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুকূলে হস্তান্তর করছে। তফসিলি ব্যাংকের অনুকূলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত ইমপ্রেস্ট তহবিল শেষ হয়ে গেলেও ব্যাংকগুলো নিজ তহবিল থেকে নির্ধারিত হারে নগদ সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে। পরবর্তীকালে তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছ থেকে তহবিল প্রাপ্তির পর তা পুনঃভরণ করা হবে। রেমিট্যান্স প্রাপকের অনুকূলে নগদ প্রণোদনা সহায়তা প্রদানে অযথা বিলম্ব কিংবা হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় পাঠালে দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে এই প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে যার ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রেকর্ড সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। গত সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়াকে বাজেটে সরকারের সবচেয়ে সঠিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সবাই। প্রণোদনায় এখন থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো কমবে আশা করা যাচ্ছে। এখন থেকে ব্যাংকে গেলেই প্রবাসী আয়ের প্রণোদনার টাকা পাওয়া যাবে। বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে কেউ যদি রেমিট্যান্স পাঠান, তাহলে তিনি দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন। গত ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত যারা অর্থ পাঠিয়েছেন, তারাও এখন এই প্রণোদনা পাবেন। বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য দুই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিতে সরকার বাজেটে যে বরাদ্দ রেখেছিল, তা থেকে অর্ধেক টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি এক হাজার ৫৩০ কোটি টাকা ছাড় করে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আশা করা যায়, চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় এক হাজার ৮০০ কোটি থেকে দুই হাজার কোটি ডলারও হয়ে যেতে পারে। বিদায়ী অর্থবছরে এটি ছিল এক হাজার ৫০০ ডলারের মতো। এখন থেকে এক হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠানোর ক্ষেত্রে কাউকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না, কোনো কাগজপত্রও চাওয়া হবে না। এমনকি এক হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে দিনে তিন-চারবার করেও দেশে অর্থ পাঠানো যাবে। একবারে কেউ এর চেয়ে বেশি ডলার পাঠাতে চাইলেই কেবল কাগজপত্র চাওয়া হবে। এসব কাগজপত্রের মধ্যে আছে প্রবাসীর পাসপোর্টের কপি, বিদেশি কোম্পানির নিয়োগপত্র, ব্যবসা করলে তার নথিপত্র প্রভৃতি। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সুবাতাস বইছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। আর গত সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৯ শতাংশ। প্রতি বছর দুই ঈদের পর রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। আগস্টে কোরবানির ঈদের পর ধারণা করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা কম রেমিট্যান্স পাঠাবেন। কিন্তু এবার তেমন হয়নি। সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা, যা মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে গত মে মাসে রোজার ঈদ সামনে রেখে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল জুলাই মাসে; ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১৮ সালের মে মাসে ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে সুখবর দিয়ে শেষ হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছর। গত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল আরও বেশি; ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। রেমিট্যান্স অর্জনে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছে। সাধারণত ঈদের পর প্রবাসীরা কম রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বেড়েছে। এটা খুই ভালো খবর। প্রণোদনা দেওয়ার কারণেও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। সেসব দেশে অবস্থানকারী আমাদের প্রবাসীরা এখন বেশি মজুরি পাচ্ছেন; বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনশক্তি রফতানি বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো। স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব ও হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। এদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

আইন কমিশন গঠন: ব্যাংক খাতের বর্তমান দৈন্যদশা-নীতিকে হতবাক করেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারও যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। তাই দক্ষ একটি আইন কমিশন গঠন করে সমস্যা ও সমাধানের পথ কি হবেÑতা নির্ধারণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আইন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তখন সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহজ হবে। নানা রকম, নানাজনের নানা পরামর্শ গ্রহণ করা কঠিন। বিশেষ করে আইএমএফের পরামর্শগুলো গ্রহণ করা বা না করার মধ্যে বেশ যুক্তি খুঁজে পাবেন। যদিও সরকার দু-দুবার আইএমএফকে অনুরোধ করে বিশেষ প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু কি করে সরকার তাদের দেওয়া পরামর্শগুলো কার্যকর করবে, তা দেখার বিষয়। সরকারের সহযোগিতার জন্য তাই ব্যাংক খাতের উন্নতিতে জরুরি ভিত্তিতে আইন কমিশন গঠন করে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়া।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণহীন: ব্যাংক খাতের পর দেশের সবচেয়ে বড় অর্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার। কিন্তু বিগত ১০ বছরে দু-দুবার পুঁজিবাজার থেকে অর্থ কতিপয় ব্যক্তির পকেটে চলে গেছে। ইব্রাহিম খালেদ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। তাই পুঁজিবাজার এখনও হায় হায় অবস্থা। শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগে এ অর্থ সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার অন্যতম। ব্যাংক খাতের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পুঁজিবাজার। কিন্তু মানুষ শেয়ারবাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। হাজার হাজার বিনিয়োগকারী নিজেদের মূলধন হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব। আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক হচ্ছে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন। এ কমিশনে স্বচ্ছ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করে পুনর্গঠন করা জরুরি। সফলতা আনতে এ সংস্থাকে দ্রুত পুনর্গঠন জরুরি। পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত দুর্নীতিতে ইব্রাহিম খালেদ তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা হলে আগামীতে একই ধরনের অপকর্মের সাহস অন্য কেউ করবে না। বিচারহীনতা দূর না করতে পারলে পুঁজিবাজারে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে না। আর পুঁজিবাজার আমাদের শিল্প-বাণিজ্যে অর্থ সরবরাহকারী অন্যতম সংস্থা। এ সংস্থা অর্থ সরবরাহ করতে না পারলে শিল্প-কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের কঠিন হবে। কিন্তু কিছু কিছু সংস্থা বা এর মালিকরা বিভিন্ন ধরনের অপকৌশলে পুঁজিবাজারের অর্থ বিদেশে পাচার করেন। অথচ পুঁজিবাজরের অর্থ দেশে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ হওয়ার কথা। তাতে দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। বেকার সমস্যার অনেক সমাধান হতো। কিন্তু বিগত ১০ বছর ধরে পুঁজিবাজারে স্থবিরতা বিরাজ করছে। কর্তাব্যক্তিদের অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়মে পুঁজিবাজার এখন তলানিতে চলে গেছে। আইনের শাসন কায়েমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ক্রিয়াশীল কার্যক্রম নিয়ে দেশকে এগিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সে সুদিনের অপেক্ষায় পুরো জাতি।

লেখক : আবুল কাসেম হায়দার, সাবেক সহসভাপতি, এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ বিজিএমইএ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ